মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন উদ্যোগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটের রামপালে ইছালে ছওয়াব মাহফিলের রান্না করা মাংশ বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ পুলিশ ও র‍্যাব এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার হলো মহাসিন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পূত্র শাফিন বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড আজ কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর পিন্টুর বাসভবনে হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পানি সংরক্ষণের জলাধার বিতরণ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা ছোট পর্দার অভিনেতা রুমির ইন্তেকাল প্রচণ্ড দাবদাহে খুলনায় কেএমপি কমিশনারের উদ্যোগে বিশুদ্ধ খাবার পানি, জুস ও স্যালাইন বিতরণ

মায়ের স্মৃতি বিজড়িত জমি ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৩

ইমরান মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার।।খুলনার দিঘলিয়ায় মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতি বিজড়িত জমি ও পাট গোডাউন ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বোন শেখ রেহেনাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত সফরে শুক্রবার বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ থেকে সড়কপথে খুলনার দিঘলিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে নগরঘাট ফেরি পার হয়ে বিকাল ৪টায় তাঁর মায়ের নামে কেনা জমি ও পাট গোডাউনে যান। সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিঘলিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী খুলনা নগরীর শেরে বাংলা সড়কে অবস্থিত প্রয়াত চাচা শেখ আবু নাসেরের বাড়িতে যান। বঙ্গবন্ধু খুলনায় এসে এই বাড়িতে অবস্থান করতেন। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাক্ষাত করেন। ওই বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে সড়ক পথে খুলনা ত্যাগ করেন।

ওই বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দুপুর থেকেই খুলনা শহর বাইপাস ও দৌলতপুত, ফুলবাড়িগেটে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর খুলনায় প্রবেশ করলে নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়কে লাগানো হয় অসংখ্য তোরণ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রূপসা সেতু থেকে শুরু করে খুলনা শহর বাইপাস, দিঘলিয়া ও শেখপাড়ার চাচার বাড়ি এলাকায় মোতায়েন করা হয় আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সদস্য। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভৈরব ও রূপসা নদী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন জানান, পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে দিঘলিয়ার ভৈরব নদের কোলঘেষে নগরঘাট এলাকায় ১ একর ৪৪ শতক জমিতে পাট গোডাউন ও এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘরসহ জমি কেনেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের এ জমি দেখাশোনা করতেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী এ জমির মালিক হলেও জমিটির কথা জানতেন না তিনি। ২০০৭ সালে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে এ জমির খোঁজ পান।

খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এই জমি দেখাশোনা করে থাকেন। ২০২০ সালের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জমিতে থাকা পুরাতন পাট গোডাউনটি ভেঙে সেখানে নতুন করে গোডাউন ও একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। গোডাউনটি একজন পাট ব্যবসায়ীকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গোডাউন সংলগ্ন পাকা রাস্তার নামকরণ হয়েছে শেখ রাসেলের নামে। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী এই স্থান পরিদর্শন করলেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পারিবারিক সফরে খুলনায় এসে দিঘলিয়ায় মায়ের নামে কেনা জমি ও গোডাউন ঘুরে দেখেন। সেখানে কিছুসময় অবস্থান করার পর প্রধানমন্ত্রী তার ছোট চাচা শেখ আবু নাসেরের বাড়িতে যান। বিকেলে সেখানে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, নগর সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, আমি এবং সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা আ’লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী চা খেতে খেতে আমাদের দলের সাংগঠিক বিষয়ে দিক নানা নির্দেশনা দেন। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে সন্ধ্যা ৬ টার পর পর তিনি সড়ক পথে খানজাহান আলী সেতু হয়ে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

জানা গেছে, খুলনায় ব্যক্তিগত সফর শেষে সড়ক পথে টুঙ্গিপাড়ায় ফিরবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোটবোন শেখ রেহানা টুঙ্গিপাড়ায় রাতযাপন করবেন

 

এর আগে সকাল সোয়া ৮টার দিকে সড়ক পথে গণভবন থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান তিনি। বেলা ১১ টা ১০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। বিকেল ৩টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়ক পথে তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ ২০১৮ সালের ৩ মার্চ খুলনায় এসেছিলেন।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park