শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাশাপাশি শায়িত হলেন মোবারক কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন নতুন প্রতিমন্ত্রীরা ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি রায়হান, সম্পাদক ফয়সাল যে কোন ধর্মীয় উৎসব সকলের মাঝে সম্প্রীতি বন্ধনের সৃষ্টি করে : ভূমিমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিক তুহিনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি পাইকগাছায় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ সহ জুয়াড়ি আটক-৮ বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫ জন খুলনার বইমেলায় পৌনে ৫ কোটি টাকার বই বিক্রি কাচ্চি ভাই’‌তে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট

মাদক ও ফ্রি ফায়ারে ছেয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চল! ঝুকছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

 

এইচ এম সাগর হিরামন।।বছরের শুরু থেকেই বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গাজা সেবনকারীদের অভয়ারণ্যয় বিচরণের পাশাপাশি ফ্রি ফায়ার গেমস খেলা ব‍্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে রাত যতই গভীর হয়,ততই দেখা মেলে এই মাদক সেবনকারীদের ও উঠতি বয়সের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। এদের বেশির ভাগ দেখা যায়, রাতে যে সব চার দোকান খোলা থাকে তার ভিতর। বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এই মাদক সেবনকারী ও উঠতি বয়সের যুবসমাজ মেতে উঠেছে এই সব মরণ ব‍্যাধী খেলায়। বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে এদের সংখ‍্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাত যত গভীর হয়,তথ্যই এদের দেখা যায় বিভিন্ন ফাকা ওয়াপদা রাস্তায়, লীজগেরে বাসায়, বিভিন্ন পরিত্যক্ত বাসা বাড়িতে। এদের ভয়ে আতঙ্কে থাকে ঐসকল এলাকায় বসবাসকারী লোকজন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই রক্তাক্ত জখম, আহত, নিহতর শিকার হতে হয় প্রতিবাদ কারীদের। এদের ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা এলাকাবাসি। গোটা এলাকা যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে এই মাদক সেবনকারীদের ভয়ে। জেল থেকে বেরিয়ে গর্জে ওঠে এই মাদক বেচাকেনায়। কোনভাবে ঠেকানো যাচ্ছেনা এই মাদক বিক্রেতাদের। ফলে দিন দিন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে বটিয়াঘাটা যুবসমাজ তথা আইনশৃঙ্খলা। মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায় এসকল মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীরা। আবার নতুন করে শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবকদের মোবাইলে বিভিন্ন গেম। যেমন ফ্রি ফায়ার সহ নানাবিদ জুয়া খেলা। এখানে বিশেষ করে স্কুল গামী শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ দেখা যায়। সন্ধ্যা হলে বিভিন্ন চার দোকানে,বালুরমাঠ,নদীর চর,ফাঁকা রাস্তায়,নিরিবিলি স্থান,লীজ ঘেরের বাসা সহ বিভিন্ন স্থানে এদেরকে আড্ডা দিয়ে গেম খেলতে দেখা যায়। সন্ধ্যা হলেই এই সিন্ডিকেট গেম বাহিনী একসাথে মিলিত হয়। মেতে ওঠে এই জুয়ার নেশায়। পরিণত হয় মোবাইল গেম বাহিনীর মিলন মেলা। বটিয়াঘাটা উপজেলার আওতাধীন রয়েছে বটিয়াঘাটা থানা সহ আরও দুটি থানা। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন। থানা দুটি হলো লবনচোরা ও হরিনটানা থানা। লবনচোরা থানা এরিয়ার মধ্যে রয়েছে র‍্যাব ৬ অফিস। বটিয়াঘাটা থানা থেকে ৭টি ইউনিয়নের দুরত্ব হলো ১নং জলমা ইউনিয়ন ৩ কিলোমিটার, ২নং বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়ন ০.৫ কিলোমিটার, ৩নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন ১০ কিলোমিটার, ৪নং সুরখালী ইউনিয়ন ১৪ কিলোমিটার, ৫নং ভান্ডারকোট ইউনিয়ন ২৫ কিলোমিটার, ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ২২ কিলোমিটার, ৭নং আমিরপুর ইউনিয়ন ১৮ কিলোমিটার। জলমা এলাকার কৈয়া বাজার বালুর মাঠ, রাজবাঁধ সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার ভিতরে, উত্তর শৈলমাারী এলাকার সৌমেন বৈরাগী, উৎস হালদার, চয়ন মন্ডল, হিরোক রায়,রাজু মন্ডল,জয়খালীর শহিদুল ইসলাম,জিরোপয়েন্ট বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের ভিতর, মাথাভাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশে পাশে। সুরখালী ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে রয়েছে এদের একটি সিন্ডিকেট বাহিনী। মাদক তালিকায় রয়েছে এই দুই ইউনিয়নের নাম। তেতুলতলা বাজারের পাশেই একটি মাঠে,জলমা পরিষদ মাঠ। চক্রাখালী পুরাতন খেয়াঘাট, মল্লিক এর মোড়ে,নদীর পাশ দিয়ে ওয়াপদা রাস্তায়, নিজ খামার। আশিকনগর, মহম্মদনগর, আরাফাত এলাকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনে। বটিয়াঘাটা সদরে নাহাড়ীতলা বাংলালিংক টাওয়ার এলাকায় মাদক সেবন কারীদের আস্তানা। সুজনের ছেলে ব‍্যংকার,চালনা কৃষি ব্যাংক ক্যাশিয়ার সুভাষ দাশের পুত্র, মাদকখোর রুদ্র,সজ্বীব,কাঠ মিস্ত্রি মুকুলের ছেলে মিলনসহ আরো অনেকে মিলে রাতে গাজার আসর বসায়। বটিয়াঘাটা বাজারে রয়েছে মাতাল নামে একজন। সে মদ,গাজা খেয়ে মাঝেমধ্যে বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাতলামি করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পুলিশের তালিকায় নেই তার কোন নাম। বটিয়াঘাটা ব্রিজের নিচে হাসান, মাসুম জয়,জিয়া। ছয়গরিয়া এলাকায় দিবদাশ, অজিত, কাজল, অশোক,সহ আরো অনেকে রয়েছে মাদকের সাথে জড়িত। সম্প্রতি উপজেলার গাওঘরা এলাকায় মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কুদ্দুস শেখ নামের এক মিল শ্রমিক রক্তাক্ত জখম হয়। পরে এলাকাবাসি রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কাতিয়ানাংলা এলাকার মাদক সম্রাট ইব্রাহিম গাজীর নেতৃত্বে রয়েছে একটি মাদক সিন্ডিকেট গ্রুপ। দেড় মাস পূর্বে এদের নেতৃত্বে বতর্মান চেয়ারম্যান আসলাম হালদারের বাড়ির সামনে গভীর রাতে একটি মালবাহী গাড়ি থামিয়ে, গাড়ি চালক সহ তার হেলপারকে বেদম মারপিট করে। তারা গাড়িটি ভেঙ্গে ব‍্যাপক ক্ষতি সাধন করে। পরে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাদক খরদের জরিমানা করা হয়। একই এলাকার সংখ‍্যালঘু স্বপন দাসের পরিবার এলাকার মাদক খোরদের অব‍্যহত হুমকির ভয়ে রয়েছে চরম নিরাপত্তাহিনতায়। উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে রয়েছে মাদকসহ বন‍্যপ্রাণী হাসপা,তক্কো কেনা বেচা সিন্ডিকেট একটি চক্র। এদেরকে বেশিরভাগ সময় খুলনা জিরোপয়েন্ট এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়।ভান্ডারকোট,বালিয়াডাঙ্গা,আমিরপুর,গঙ্গারামপুর সহ সুরখালী ইউনিয়নে রয়েছে মাদক সেবন কারিদের একটি সংঘবদ্ধচক্র। উপজেলার বিরাট এলাকার টিপু(ঘরজামাই) ও তালবুনিয়া এলাকার মুশিয়ার শেখের পুত্র সজীব মাদক মামলায় সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পায়। বতর্মান তারা জেল থেকে বেরিয়ে আবারও মাদকের আকড়া গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির । বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত তিন মাসে ১৫/২০ জন মাদক ব‍্যবসায়ীকে আটক করেছে। এদের কাছ থেকে ৭৭৫ গ্রাম গাজা ও ১৯৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মাদকদ্রব‍্য আইনে মামলা হইছে। থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহা জালাল (ওসির) নিদ্দেশে সাব ইন্সপেক্টর এস আই প্রদ্যুৎ কুমার রায় ও এস আই আব্দুল আজিজ এর বিশেষ অভিযানে উক্ত অভিযান পরিচালিত হয়। বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ শাহা জালাল বলেন,মাদকের জন‍্য কোন আপোষ নেই। মাদকের সাথে জড়িত কাইকে ছাড় দেওয়া হবেনা। মাদক অভিযান অব‍্যাহত রয়েছে ও থাকবে।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park