রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে আগাম সতর্কতা! নিত্যপণ্য আমদানিতে শুল্ক কমাবে সরকার

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সার আমদানি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এমনকি গতকাল সোমবারও এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, কিছু কিছু খাদ্য পণ্য আমদানিতে এখনো কর-ভ্যাট আরোপ আছে। তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সমস্যা হলে দেশের ভেতরে জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে। যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে তুলবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে কর-ভ্যাট তুলে নিতে হবে।

এজন্য এনবিআরকে পরীক্ষা করে দেখার কথা বলেছেন তিনি। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও গম, চাল, তেল, চিনির মতো খাদ্যপণ্য আমদানিতে ডলারের সংস্থান করতে হবে। খাদ্য সরবরাহে যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ডলারের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি, সরকারের ভর্তুকি, ঋণের সুদহারে সীমা, আইএমএফের ঋণের শর্তসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়। গতকাল সোমবার দেশের ২৫ জেলায় ১০০ সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক যে মন্দা দেখা দিয়েছে তার ধকল থেকে বাঁচতে সবাইকে সাশ্রয়ী, সতর্ক ও মিতব্যয়ী হতে হবে। নিজেদের সঞ্চয় বাড়াতে হবে। তেল, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করতে হবে। যেখানে খালি জমি আছে, যত বেশি পারবেন খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। তিনি বলেন, ফল, তরকারি, যেটাই পারেন, উৎপাদন করবেন। হাঁস-মুরগি, ছাগল-ভেড়া পালন করবেন। নিজেদের উপার্জন নিজেদের করার চেষ্টা করতে হবে। যাতে বিশ্বব্যাপী মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশে বেশি ক্ষতি করতে না পারে। আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্যের যে অভাব দেখা দিচ্ছে, সেই অভাব থেকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মুক্ত থাকে।

জানা গেছে, ডলার সংকটের কারণে কিছু ব্যাংক এলসি খুলছে না। বেসরকারি খাতের এলসির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বেশি। অথচ তেল, ডাল, চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সবই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আমদানি হয়। আর গম ও চালের বেশিরভাগই আমদানি করে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন যে, খাদ্যপণ্য আমদানি করতে কোনো ব্যাংক প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় অন্য ব্যাংক থেকে সরবরাহ করতে হবে।

সভা সূত্র জানায়, বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য মন্দা ও দুর্ভিক্ষের প্রভাব যাতে না পড়ে সে জন্য সতর্ক থাকার তাগিদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশ্ব পরিস্থিতির কিছু প্রভাব ইতোমধ্যে দেশে পড়েছে। বর্তমানে মূল্য্ম্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে। ডলার সংকটে কিছু ক্ষেত্রে নিত্যপণ্য আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, ডলার সংকটের কারণে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো সংকট তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীতে কোনো দুর্যোগে যাতে বড় সমস্যা তৈরি না হয় সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরের যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে খাদ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ গরিব মানুষের জন্য চলমান সরকারি কার্যক্রমে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় তা কঠোরভাবে তদারক করতে বলেছেন।

ডলার সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছেন না। বরং সংকট আরো গভীর হচ্ছে। এলসি খোলা কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। ছোট কিছু ব্যাংক এখন কোনো ধরনের এলসি খুলছে না। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের বাইরে কোনো ব্যাংক এলসি খুলতে চাচ্ছে না। খুললেও ২০ হাজার ডলারের বেশি এলসি নিচ্ছে না। এতে স্থানীয় শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে আছেন বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানি করে শুধু দেশের বাজারে বিক্রি করেন। তাদের ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, পরিচালন ব্যয় হচ্ছে। অথচ উৎপাদন করতে পারছেন না। ফলে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডলার সংকট মোকাবিলায় পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রয়োজনে আমদানি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, শতভাগ এলসি মার্জিন দিয়ে এলসি খোলার ফলে এমনিতেই খরচ বেড়েছে। কেননা, আগে যেখানে পণ্য আসার পর টাকা দিতে হতো, এখন পণ্য আসার দুই থেকে তিন মাস আগে দিতে হচ্ছে। এর পরও অনেকে এলসি খুলতে পারছেন না। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, ডলার সংকট উত্তরণে এখন রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রণোদনার হার আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা যেতে পারে। পাশাপাশি যেসব বাধা রয়েছে, তা দূর করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমদানি ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে পার্থক্য কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিলাসবহুল দ্রব্যের আমদানি কমাতে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণ ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ডলার বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন গভর্নর।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park