শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাশাপাশি শায়িত হলেন মোবারক কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন নতুন প্রতিমন্ত্রীরা ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি রায়হান, সম্পাদক ফয়সাল যে কোন ধর্মীয় উৎসব সকলের মাঝে সম্প্রীতি বন্ধনের সৃষ্টি করে : ভূমিমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিক তুহিনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি পাইকগাছায় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ সহ জুয়াড়ি আটক-৮ বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫ জন খুলনার বইমেলায় পৌনে ৫ কোটি টাকার বই বিক্রি কাচ্চি ভাই’‌তে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট

দাকোপের বিভিন্ন নদী ও খাল গুলোতে ভাসছে বড় বড় কুমির : আতঙ্কে গ্রামবাসী

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

 

 

শাওন দাস (সোহাগ)দাকোপ প্রতিনিধি।।দাকোপের বিভিন্ন নদী ও খাল গুলোতে ভাসছে বড় বড় কুমির। প্রভাব ফেলছে নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের জীবন জীবিকার উপর।
গত ২৭ ই জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের কালাবগী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ফকিরকোনার পাশের নদীতে খ্যাওলা জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় আরশাদ মোড়লের ছেলে খায়রুল মোড়ল (৩২)।এর দু’দিন পরেই নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় তার লাশ।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো উপকূল জুড়ে কুমির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়ে নদীতে মাছ ধরতে পারছেন না উপকূলের হতদরিদ্র পরিবার গুলো। বিশেষ করে শিবসা,ভদ্রা,সুতারখালী,চুনকুড়ি এবং পশুর নদীর উপর যাদের পরিবার নির্ভরশীল তাদের পরিবারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে।

সুতারখালী ৪নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন মতিন বিশ্বাস বলেন, আগে প্রতিদিনই সুতারখালী নদীতে কিছু মানুষ খ্যাওলা জাল দিয়ে মাছ ধরে সংসার চালাতো বর্তমানে কুমির আতঙ্কে তাদের সেই মাছ ধরাও বন্ধ হয়েছে।বর্তমানে তারা অভাব অনটনে দিনযাপন করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালাবগী থেকে একজন জানান, প্রতিদিনই নদীতে জাল টেনে কোনো রকমে সংসার চালাতাম।পেটের দ্বায়ে প্রশাসনের ভয়কে উপেক্ষা করে কোনো রকমে পরিবারের মুখে লবণ ভাত জোটাতে পারলেও বর্তমানে কুমির আতঙ্কে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং কুমিরের ভয়ে নদীতে নামতে না পারায় পরিবার,পরিজন নিয়ে খুবই দুর্বিষহ অবস্থার ভিতর দিনযাপন করছি।

কালাবগী ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিমাই রায় বলেন, কুমিরের আক্রমণে খায়রুল মোড়ল নিহতের পর এলাকায় শোকের ছায়া যেমন নেমে এসেছে তেমনি কুমির আতঙ্কে আছে কালাবগির মানুষ গুলো। বিশেষ করে কালাবগী ফকিরকোনার (বিচ্ছিন্ন দ্বীপ) মানুষ গুলো মারাত্মক দুর্বিষহ অবস্থার ভিতর দিনযাপন করছে। তারা নদীতে মাছ ধরাতো দুরে থাক গোসল করতে নামতেও ভয় পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন বন্ধ থাকায় এমনিতেই তাদের পরিবারে অভাবের হাতছানি তার উপর কুমির আতঙ্ক যেন “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা”।তিনি আরো বলেন,নিহত খায়রুল মোড়লের পরিবার কে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আর্থিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে,যা খুব শীঘ্রই তার গর্ভবতী স্ত্রীর নিকট তুলে দেয়া হবে।

জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী ও খালে থাকা বেশির ভাগ মাছ ডিম ছাড়ে। এ কারণে ১ জুন থেকে ৯২ দিনের জন্য জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশের সব ধরনের অনুমতি বন্ধ রাখে বন বিভাগ।

নিষেধাজ্ঞাকালিন সময়ে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এসব জেলেকে ৩ মাসে ৮৬ কেজি চাল দেওয়া হয়। যা জেলেদের জন্য অত্যন্ত কম এবং বেশিরভাগ জেলেরা ঋণগ্রস্ত হওয়ায় তাদের পরিবারে এই ৩ মাসে নেমে আসে অভাব ও হাহাকার। তার উপর কুমির আতঙ্ক তাদের জীবনে যেন নতুন বিষফোড়া।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park