মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছার গদাইপুর ইউ’পিতে ১৫৪৭টি পরিবারের মাঝে টিসিবি পন্য বিতরণ খুলনায় ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন উদ্যোগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটের রামপালে ইছালে ছওয়াব মাহফিলের রান্না করা মাংশ বিক্রি করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ পুলিশ ও র‍্যাব এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার হলো মহাসিন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পূত্র শাফিন বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড আজ কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর পিন্টুর বাসভবনে হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পানি সংরক্ষণের জলাধার বিতরণ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা ছোট পর্দার অভিনেতা রুমির ইন্তেকাল

খুলনার বটিয়াঘাটায় চলছে পেট্রোল,অকটেন বিক্রির হিড়িক! অধিকাংশ ব‍্যবসায়ীর নেই কোন লাইসেন্স

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২

 

এইচ এম সাগর (হিরামন)বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি।।রাস্তার পাশে সারি সারি সাজানো বোতলের বাহারি রং দেখলে মনে হবে সরকারি অনুমোদন নিয়েই পরিকল্পিত ব্যবসায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। আসলে কিন্তু যা ভাবা হচ্ছে তা নয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের বিনা অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে এভাবেই খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে অকটেন ও পেট্রল সহ তরল জাতীয় বিভিন্ন প্রকারের তৈলাক্ত মালামাল। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় পথচারীরা।
একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। খোলা বাজারে অনুমোদনহীন দোকান থেকে পেট্রোল কিনে দুর্বৃত্তরা ঘটাতে পারে যে কোনো সময় দূর্ঘটনা। অবৈধ ভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি করায়, রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সামনে রাস্তার পাশে অকটেন পেট্রোল সারিবদ্ধভাবে রেখে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানের কোনো টিরও পেট্রোল বিক্রি করার অনুমোদনপত্র নেই। নেই অধিকাংশ ব‍্যবসায়ীর সরকারি নিবন্ধন। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস এবং বিস্ফোরক অধিদফতরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল,অকটেন সহ নানাবিধ তরল জাতীয় পদার্থ। খজখবর নিয়ে যানা যায়,শুধু মাত্র ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বিক্রি করছে তারা। আবার কেউ অনুমোদন ও অগ্নিনির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই জ্বালানি ও পেট্রোল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও জানা নেই এসব ব্যবসায়ীদের। জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবেই এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে উক্ত অসাধু ব‍্যবসায়ীরা। উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে হাট বাজার, এমনকি গ্রামের মুদি ও চার দোকানে বিভিন্ন হচ্ছে এসব। চক্রাখালী,জলমা, বটিয়াঘাটা বাজার, কৈয়া বাজার, জিরো পয়েন্ট, বিশ্বরোডে, লবনচরা এলাকায়,সাচিবুনিয়া এলাকা, শৈলমারী,ভান্ডারকোট, কাতিয়ানাংলা বাজার,সুকদাড়া, গাওঘরা, রায়পুর, বারোআড়িয়া,সুন্দরমহল বাজার সহ পাইকগাছার ফুলবাড়ি ও দারুন মল্লিক বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ‍্য বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার সড়কের পাশে শতাধিক স্থানে রয়েছে এসব দোকান। কাপড়, চা, মুদি, রড, সিমেন্টের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এসব পেট্রোল। বিপজ্জনক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠান খুলে ড্রামে করে তৈল এনে বিক্রি করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বেশকিছু ক্ষুদ্র পেট্রোল ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমাদের ফায়ার সার্ভিস-এর ছাড়পত্র ও অনুমোদন আছে। অনেকে বলেন,মাঝেমধ্যে স‍্যারদের কিছু সন্তুষ্ট করতে হয়। অনেক সময় বোতলে করে পেট্রোল কিনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বোতলজাত করে বিক্রি করছেন পেট্রল। এসব দোকান থেকে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা পেট্রল কিনে নিচ্ছেন অবাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, হাতের নাগালে পেট্রল বিক্রি করায় সন্ত্রাসীরা অহরহ পেয়ে থাকে এবং এতে খুব সহজে সন্ত্রাসীরা নাশকতার কাজে পেট্রল ব্যবহার করতে পারে। অতি দ্রুত প্রশাসনের কাছে এ দাহ্য পদার্থ সড়ক পাশে বিক্রি বন্ধের দাবি জানান তারা। জানা গেছে, জ্বালানি তেল বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধা-পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা-সংক্রান্ত লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে বটিয়াঘাটায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এসব জ্বালানি তেল। জনবসতি এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এমন জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন সচেতন মহল। দুর্ঘটনা ও নাশকতা এড়াতে বটিয়াঘাটার বিভিন্নস্থানে এসব জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,সরকারি অনুমোদন ছাড়া কেউ এই ব‍্যবসা করতে পারেনা। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে অবগত করব। ##

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park