মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ ও র‍্যাব এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার হলো মহাসিন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পূত্র শাফিন বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড আজ কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর পিন্টুর বাসভবনে হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পানি সংরক্ষণের জলাধার বিতরণ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা ছোট পর্দার অভিনেতা রুমির ইন্তেকাল প্রচণ্ড দাবদাহে খুলনায় কেএমপি কমিশনারের উদ্যোগে বিশুদ্ধ খাবার পানি, জুস ও স্যালাইন বিতরণ খুলনা আড়ংঘাটা বাইপাস আকমলের মোড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার আইজিপি কাপ ক্রিকেটে পুলিশ স্টাফ কলেজ তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন এবং খুলনা রেঞ্জ রানার আপ

খুলনায় বাক্সেই নষ্ট কোটি টাকার যন্ত্র

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ২০১১ সালের মে মাসে এসেছিল আট কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর রেডিওথেরাপি মেশিন। তখন মেশিনটি বসানোর কোনো অবকাঠামো ছিল না। ফলে মেশিনটি বাক্সবন্দি করে রাখা হয়। ওই অবস্থায় ১২ বছর কেটে যাওয়ায় এখন তা আর ব্যবহার উপযোগী নেই। ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ এ মেশিনটি কোনো ভূমিকা না রেখেই আবর্জনার স্তূপে ঠাঁই পেতে যাচ্ছে। এ ধরনের অনেক যন্ত্রপাতি খুলনার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাক্সবন্দি অবস্থায় থেকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। ফলে একদিকে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ঘটছে, অন্যদিকে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর রেডিওথেরাপি মেশিন ছাড়াও সেখানকার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের দুটি সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে একটি, একমাত্র ৩০০ এমএম এক্সরে মেশিন, ছয়টি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মধ্যে দুটি অচল হয়ে পড়ে আছে। এসব মেশিনের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা। মূলত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার উপযোগী জনবল না থাকায় এ অবস্থা। ফলে সম্পদ ও সেবা দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে।

সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৫ মে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জন্য লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর রেডিওথেরাপি মেশিনটি কেনা হয়েছিল। তখন ক্যান্সার ইনিস্টিটিউটে ওই মেশিনটি স্থাপনের সুযোগ না থাকায় তা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ে খুমেক হাসপাতালেও মেশিনটি স্থাপনের কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে সেটি বাক্সবন্দি করে অনকোলজি বিভাগের সামনে রাখা হয়। ২০১৫ সালে ১৭ নভেম্বর মেশিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যারিয়েন মেডিক্যাল সিস্টেম’-এর এক প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে জানায়, এটি খুমেক হাপাসপাতালে স্থাপনের জন্য বিশেষ অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে খরচ হবে সাত কোটি টাকা।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তখন সেই টাকা না দিয়ে তা জাতীয় ক্যান্সার ইনিস্টিটিউটে ফেরত নিতে চায়। যেহেতু মেশিনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও বাক্সবন্দি ছিল, তাই ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট মেশিনটি নিতে চায়নি। এভাবেই মেশিনটি বাক্সবন্দি থেকেই ১২ বছর পার করেছে এবং ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে।

খুলনার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, তবে তা ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল নেই।এর ফলে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিনগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে খুমেক হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুকিতুল হুদা বলেন, ‘ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের তিন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তা হচ্ছে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও সার্জারি। আমাদের এখানে কেমোথেরাপি দেওয়া ও সার্জারি করা হয়। তবে আমরা রেডিওথেরাপি দিতে পারি না। রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য লিনিয়ার অ্যাকসেলারেটর মেশিনটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক যুগ ধরে বাক্সবন্দি থাকায় তা এখন অকেজো হয়ে গেছে। ফলে যেসব রোগীর কেমো বা সার্জারি পর টিউমার ধ্বংস করতে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়, তাদের ঢাকার হাসপাতালগুলোতে রেফার করা হয়।

 

 

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park