শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনায় পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পাশাপাশি শায়িত হলেন মোবারক কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন নতুন প্রতিমন্ত্রীরা ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি রায়হান, সম্পাদক ফয়সাল যে কোন ধর্মীয় উৎসব সকলের মাঝে সম্প্রীতি বন্ধনের সৃষ্টি করে : ভূমিমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিক তুহিনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি পাইকগাছায় জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ সহ জুয়াড়ি আটক-৮ বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫ জন খুলনার বইমেলায় পৌনে ৫ কোটি টাকার বই বিক্রি কাচ্চি ভাই’‌তে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট

খালেদা জিয়ার সক্রিয় রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক!

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ডেস্ক রিপোর্ট।। দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচনার বিষয় দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয়তা নিয়ে। গেল বেশ কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে চলছে চরম আলোচনা। সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পর্যায় ও ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাই কার্যত বিষয়টিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে টেনে এনেছেন। যদিও যার (খালেদা জিয়া) বিষয়ে এত শোরগোল তিনি (খালেদা জিয়া) বা তার দল বিএনপি এ বিষয়ে এখনো রয়েছে নিশ্চুপ। দলীয়ভাবেও এ বিষয়ে তারা কথা বলতে চান না।

গত ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে হঠাৎ করেই বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যর পরই মূলত রাজনীতির নতুন এ বিতর্ক তৈরি হয়। ওইদিন শেখ সেলিম সংসদে দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন না, এমন মুচলেকা রয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য তার ভাই-বোন প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বাড়িতে নিলে যদি রাজনীতি করে, সেজন্য তাদের বলা হয়েছে, এভাবে বাসায় নিলে তো রাজনীতি করতে পারবে। সেটা তো দেওয়া যাবে না। তখন বলেছে, মুচলেকা রয়েছে যে খালেদা জিয়া রাজনীতি করবে না, সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাজনীতি করবে না।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে ওই বছরের অক্টোবরে সাজা বেড়ে দ্বিগুণ হয় বিএনপি নেত্রীর। একই মাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আরও সাত বছরের সাজা হয় তার। সব মিলিয়ে তার সাজা হয় ১৭ বছর।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন বিএনপিপ্রধান। তার জামিনের আবেদন বারবার নাকচ হওয়ার মধ্যে স্বজনরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মুক্তির আবেদন নিয়ে যান। আর সরকারপ্রধানের নির্বাহী আদেশে ওই বছরের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান দেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এরপর গুলশানের বাসায় ফিরোজায় ওঠেন। সেখানে থাকার পর বেশ কয়েকবার গুরুতর অসুস্থ হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হলে তাকে ফের বাসায় আনা হয়।

শেখ সেলিম বলেন, যিনি রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়েছেন, তিনি নাকি ১০ ডিসেম্বর ক্ষমতা দখল করবেন, শেখ হাসিনার পতন ঘটাবে। এসব হলো জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও তাদের (বিএনপির) লোকদের কিছু খোরাক দেওয়ার জন্য।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয়তার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া কি দণ্ডাদেশ থেকে মুক্তি পেয়েছেন? তিনি যে দণ্ডিত, কনভিক্টেড, সেটা থেকে তিনি কি মুক্তি পেয়েছেন? যেটুকু পেয়েছেন, সেটা মানবিক কারণে। শেখ হাসিনার উদারতার জন্য এটা হয়েছে। কি জন্য? মানবিক কারণটা কেন? অসুস্থ মানুষকে মানবিক কারণে তার দণ্ড মুক্ত নয়, স্থগিত করা হয়েছে। অসুস্থ না হলে তিনি থাকতেন কোথায়? কারাগারে। ঠিক আছে? তাহলে দন্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার সুযোগ কোথায়?

 

বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মানবিক কারণ আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পেয়েছেন। তা না হলে দণ্ডিত ব্যক্তি তো জেলে থাকবে। আর দণ্ডিত ব্যক্তি এটা নিয়ে তাদের (বিএনপি) সন্দেহ থাকলে ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে? নিশ্চয় তিনি (খালেদা জিয়া) ভ্যালিডেবল না, সেজন্য তাকে (তারেক রহমান) এনে বসিয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারেন না।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে বলে দলটির নেতারা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের এমন বক্তব্যের জবাবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে রাজনীতির কথা নেই। তবে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কেউ দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন না। খালেদা জিয়া দুই বছরের অনেক বেশি সময় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং তার নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না। তাকে শর্তসাপেক্ষে শারীরিক অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় কারাগারের বাইরে ঘরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতিও করতে পারেন না। যেই শর্তে তাকে ঘরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই শর্তের মধ্যে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন-এটি নেই। শর্তের মধ্যে বলা আছে তিনি ঘরে থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং অন্য কোনো কিছু করতে পারবেন না। সুতরাং তার রাজনীতি করতে পারারও কথা নয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি বলে থাকে বলতে পারে, তবে আমি যতদূর জানি, আইন-কানুন বুঝছি এবং জানি এবং আমি এরই মধ্যে খোঁজখবর নিয়েছি, শর্তানুযায়ী তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন, কিন্তু তার রাজনীতি করতে পারার কথা নয়।

এদিকে খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না-তথ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেও গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো বলেছেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আইনি কোনো বাধা নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক স্টাডিজে (বিআইআইএসএস) রোহিঙ্গা বিষয়ক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার বিষয়ে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, আগামী নির্বাচনও হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধানের এক চুল বাইরেও আমরা যাব না। নির্বাচনে সবাই আসুক এটা আওয়ামী লীগ চায়। কিন্তু কে আসবে কে আসবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগত বাধা কোথায় থাকে? উনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করতে পারবেন না। তার কারণ উনি দণ্ডিত। রাজনীতি করতে পারবেন না, এ রকম কথা তো কোথাও নেই। আইনি অবস্থান হলো তিনি রাজনীতি করতে পারবেন, বাস্তব অবস্থা হলো তিনি তার যে দণ্ডাদেশ সেটা স্থগিত করেছিলেন। কারণ তিনি অসুস্থ। এটা মনে রাখতে হবে। এখন বাস্তব অবস্থাটা কী  সেটাও আপনারা জানেন।
এদিকে, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব দাবি করেছে দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জোট গণতন্ত্র মঞ্চ। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির  সঙ্গে বৈঠকের পর গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এ দাবি জানান।
বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বেগম খালেদা জিয়া পলিটিক্স করবেন না- এটা তো কখনই হতে পারে না। আওয়ামী লীগ নতুন করে কোনো জাল বিছাতে চাচ্ছে কিনা বিএনপি এইটা বুঝতে চাইছে। বিএনপির বোঝার এই চেষ্টাটা ঠিক আছে। তারপর বুঝে যখন ক্লিয়ার হবে, তখন বিএনপির পাশাপাশি আমরাও বলব- জোটের নেত্রী হিসাবে, যুগপৎ আন্দোলনের নেত্রী হিসাবে খালেদা জিয়া সামনে আসুক।
জোটটির আরেক নেতা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আওয়ামী লীগ যে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারবেন বলছে, সেই নির্বাহী ক্ষমতার বলে খালেদা জিয়াকে মামলা থেকে খালাস দিতে পারে। সেই অথরিটি সরকারের আছে। কিন্তু তারা তা দিচ্ছে না। সরকার আসলে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। এ সময় আওয়ামী লীগ বলেছে-খালেদা জিয়া রাজনীতি না কারার শর্তে মুচলেকা দিয়ে বের হয়েছেন, এখন বলছে তার রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই। হঠাৎ তারা কেন এ মন্তব্য করছে- এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মহমুদ টুকু বলেন, আওয়ামী লীগের এসব মন্তব্যে আমরা ইন্টারেস্টেড না। বিএনপি এ বিষয় নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন না। বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি করে, রাজনীতির মাঠ থেকে নেত্রী হয়েছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। রাজনীতির পরিবেশ হলে তিনি অবশ্যই রাজনীতি করবেন।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেননি।
গণতন্ত্রের মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যদের মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park