বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছায় বাল্য বিবাহ বন্ধ সহ অর্থ দন্ড প্রদান করেন-ইউএনও মাহেরা নাজনীন খুলনার গাইকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার রামপালে উপজেলা নির্বাচনে ৩ পদে ১২ জনের মনোনয়নপত্র জমা পূত্র পাচারের অভিযেগে এক নারীর বিরুদ্ধে আড়ংঘাটা থানায় অভিযোগ দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের তীরভূমি দখলের মহোৎসব; নাব্যতা সঙ্কটের শংকা পাইকগাছায় ১ম ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ একাডেমির উদ্বোধন খুলনায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ : রাষ্ট্রপতি মুক্তিপণ পেয়ে জাহাজ ছাড়ে জলদস্যুরা, নাবিকরা সুস্থ : মালিক পক্ষ

ঈশিতাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৩

 

এইচ এম সাগর (হিরামন)খুলনা।খুলনার রাস্তায় ঘুরতে থাকা মেয়েটি অবশেষে পরিবারের সন্ধান পেয়েছে। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) তার পরিবারের সদস্যরা খুলনা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রহণ করেন।গত দুইদিন ধরে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার খবর প্রকাশিত হয় স‍্যোসাল মিডিয়ায়। অচেনা একটি মেয়েকে নিয়ে সবাই যে যায মতো করে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়া ফেসবুকে।মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কিশোরী বিভ্রান্ত হয়ে মহানগরী খুলনায় ঘোরাঘুরি করছিল।রাতে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা মেয়েটিকে রূপসা এলাকা থেকে উদ্ধার করে মেয়েটিকে।পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে এ খবর তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে।পরে খবর পেয়ে মেয়েটির পরিবার গতকাল খুলনায় আসেন। মেয়েটির বাড়ি গাজীপুরের শ্রীনগর এলাকায়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে মেয়েটিকে তার পরিবার গ্রহন করেন।

খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার (এসআই) মো. আলী আকবর জানান,উই আর বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে কেউ একজন কমেন্ট করে মেয়েটির খোঁজ দেয়। পরে গ্রুপের এডমিন তাকে নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় এলাকা থেকে উদ্ধার করেন।পরবর্তীতে খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খুলনা অক্সিজেন ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবীরা রূপসা থেকে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।মেয়েটি তখনও প্রলাপ বকছিল। ফেসবুকের মাধ্যমেই ওই কিশোরীর বাবা-মা ও বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনটি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের চিকিৎসক ডা. অমিত সাহা জানান, মেয়েটি মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা ভাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক। মেয়েটির মা-বাবা জানান, আকস্মিকভাবে মেয়েকে হারিয়ে তারা কি করবে বুঝতে পারছিলেন না। কেন সে ঘর ছাড়লো বা এই অবস্থা হয়েছে কিছুই জানেন না তারা। এর আগে,খুলনার সোনাডাঙ্গার শিববাড়ী সামি হাসপাতালের সামনে এক তরুণীর দেখা মেলে। উদ্ভ্রান্তের মতো তার চলাফেরা।বয়স আনুমানিক ১৬-১৮ বছর হবে। কোনো কথা বলে না।তাকে কেউ চেনেও না। অনেকের চোখে মেয়েটি ‘পাগলি’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাকে ঘিরে উৎসুক কিছু মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। কারণ মেয়েটিকে দেখে ভালো পরিবারের সন্তান বলেই মনে হয়। পরে জানা যায়,মেয়েটির নাম ঈশিতা।তার বাড়ি গাজীপুরে।কিন্তু সে খুলনা কীভাবে এলো? মেয়েটির পরিবারের সন্ধান পেতে ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ প্রচারণা চালায়। বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে কাজ শুরু করে ‘ওয়াব (উই আর বাংলাদেশ) নামের একটি গ্রুপ।পরে মেয়েটির পরিবারের সন্ধান পেতে মেয়েটির ছবি দিয়ে ফেসবুকে প্রচারণা চালানো হয়।তাকে চিকিৎসা দিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আনন্দের খবরটি দিয়েছেন ওয়াবের সদস্যরা।তারা অবশেষে মেয়েটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরেছেন।একটি পোস্টে বলা হয়, ‘গতকাল দুপুর থেকে এখন পর্যন্ত-মানে সকাল পর্যন্ত ঘুমাইনি।সেই সাথে বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক ঘুমায়নি। গাজীপুর থেকে মেয়েটির বাবা-মা এসেছেন।আমার সাথে প্রত্যেক ৩০-৪০ মিনিট পরপর তাদের কথা হয়েছে। মেয়েটিকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি আমরা, আলহামদুলিল্লাহ।এটাই ভালো কাজের তৃপ্তি। আলো আসবেই, না আসলে সবাই মিলে টেনে আনব ইনশাআল্লাহ।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park