সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বটিয়াঘাটায় কৃষি ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহক সেবা উন্নয়ন বিষয় মতবিনিময় সভা ইবাদত বন্দেগী আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালিত বাংলাদেশের বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন ৫০ নারী, গেজেট মঙ্গলবার পাইকগাছায় ৫০০’গ্রাম গাঁজা সহ আটক-২ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ সরদার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রাপ্তির জন্য নির্বাচিত খুলনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান ভস্মীভূত কুরআন ও দ্বীনি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় মূল্যবোধের আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলবে ; শেখ জুয়েল এমপি নগরীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত

আওয়ামী লীগের একদফা ঘোষণা, শেখ হাসিনা ছাড়া নির্বাচন নয়

খুলনার কাগজ
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার।।সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির একদফার আন্দোলন ঘোষণার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদেরও একদফা। আর তা হলো বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। যেকোনো সময় মাঠে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচন পর্যন্ত খেলা হবে। মাঠ ছাড়বেন না। ডাক দিলেই চলে আসবেন।

আজ বুধবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘শান্তি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির খবর জানেন? তাদের একদফা জানেন? একদফা হলো, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমাদের দফা একটা শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়। শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দেবেন। বাংলাদেশের জনগণ যাকে ভালোবাসে, বাংলাদেশের জনগণ যে নেত্রীর সততাকে, উন্নয়নকে পছন্দকে করে, যিনি সারারাত জেগে মানুষের কথা ভাবেন, আমাদের এমন নেতা আমরা হারাতে পারি না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অপরাধ, তিনি উন্নয়ন করেছেন। শেখ হাসিনার অপরাধ, ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বেন। বিএনপির আন্দোলনের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেওয়ার কিছুই নেই ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। আজকেও কাঁথা বালিশ নিয়ে অনেক লোক আনার চেষ্টা করেছিল। আগেও একটা স্বপ্ন দেখেছিল, ওই স্বপ্ন গোলাপবাগের গরুর হাটে মরে গেছে। আজকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের ‘এক দফা’ স্বপ্ন নয়া পল্টনের কাদা-পানির ভেতরে আটকে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের এক দফা শেখ হাসিনার অধীনে সংবিধানসম্মত নির্বাচন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের এই লক্ষ্যের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বাধা দেবেন না, আমরা কাউকে আক্রমণ করতে যাব না। তিনি আরো বলেন, যে বিদেশি বন্ধুরা এসেছেন, আপনারা চান ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল, সুষ্ঠু নির্বাচন। আমাদের লক্ষ্যও ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল, সুষ্ঠু নির্বাচন। এই ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল, সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বাধা দিতে আসবে, আমরা তাদের প্রতিহত করবো।

নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, যাদের হাতে রক্তের দাগ, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়। তাদের সঙ্গে আমরা আপস করতে পারি না। সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপির নৈরাজ্যের চেষ্টা ভেস্তে গেছে। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। অথচ জিয়াউর রহমান যখন মারা গেল, তখন দেশে কারফিউ ছিলো। সামনে আমাদের লক্ষ্য আরো উন্নয়ন। পরিষ্কার বলতে চাই, তাদের পরাজিত করেই আমরা এগিয়ে যাব। আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চেয়েছে যা জনতার উত্তাল তরঙ্গে ভেসে যাবে। খুনি জিয়ার দল বিএনপি। তারা দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। বিদেশিদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছে তারা। বিদেশি বন্ধুদের বলি, আপনারা উন্নয়ন সহযোগী, সে কারণে সম্মান করি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ওরা (বিএনপি) এক কিলোমিটার দূরে যে সমাবেশ করছে, ওদের চেহারা জনগণ জানে। একদফা কীসের দফা? এই দেশের অগ্রগতি সহ্য হয় না। কারণ ওদের সৃষ্টিই হয়েছিল বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। এজন্য ওরা নির্বাচন বর্জন করবে। নানক বলেন, ওই হত্যাকারীর দল, ওই ঘাতকেরা আবারো নেমেছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য। যে হাত আগুন দিবে, সে হাত ভেঙে দিবো।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, তখন বিএনপি-জামায়াত নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা কী করেছিল? খালেদা জিয়ার আমলে কীভাবে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তা দেশবাসী জানে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন বলেন,‘বিএনপির সমাবেশ ফাঁকা হয়ে গেছে। বিএনপি কয়- এক দফা, আমরা এই সমাবেশ থেকে ওদের ‘নেই দফা’ বানিয়ে দিলাম। বিএনপি আজকেই হেরে গেছে…।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায়। সে জন্য তারা সরকার পতনের একদফা দিচ্ছে। আমরা তাদের অতীতের মতো মোকাবিলা করবো। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপির সরকার পতনের একদফা ঘরে ফিরে যাবে। জনগণকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবে। শেখ হাসিনা বাঁচলে দেশ বাঁচবে, শেখ হাসিনা এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবো না। আজ থেকে ঢাকার রাজপথ আমাদের দখলে থাকবে। নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো।

ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। নৌকার কোনো বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তার প্রমাণ পদ্মাসেতু। আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এর আগে দুপুর আড়াইটা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের সমাবেশ শুরু হয়। তবে দুপুরের আগেই সমাবেশস্থলে মিছিল সহকারে দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এই সমাবেশে কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী হাজির হন।

সরেজমিন দেখা যায়, বায়তুল মোকাররমে জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ফটক সংলগ্ন সভামঞ্চ তৈরি করা হয়। মঞ্চ থেকে পশ্চিম দিকে জিরো পয়েন্ট হয়ে সচিবালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত দুই দিকের সড়কে লাখো নেতাকর্মী অবস্থান নেন। অন্যদিকে, সভামঞ্চ থেকে গুলিস্তানের কাজী বশীর উদ্দিন মিলনায়তন (মহানগর নাট্যমঞ্চ) পর্যন্ত দুই পাশের সড়কেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ লাগোয়া পশ্চিম পাশের সড়কেও নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। জিরো পয়েন্ট থেকে পুরানা পল্টন অভিমুখী সড়কেও ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। কার্যত বড় শোডাউনে মাঠে থাকার যে বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিলো দলটির, তা পূরণ হয়েছে।
Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Khulnar Kagoj
ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট Shakil IT Park